বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এখন বাংলাদেশের সর্বত্র উৎসবের আমেজ। চায়ের দোকান থেকে অফিস কি অলিগলি– সবখানেই চলছে প্রিয় দলের পতাকা টানানো, জার্সি কেনা আর খেলা নিয়ে চিরচেনা তর্ক-বিতর্ক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শঙ্কাও। কারণ খেলা চলাকালে বিদ্যুৎ না থাকলে সব উৎসব ম্লান হয়ে যাবে।
সরকারি হিসাবে দেশে এখন বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট নেই। জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট, আর গড় লোডশেডিং ছিল ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সম্প্রতি সংসদে দাবি করেছেন, দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই; যা হচ্ছে তা মূলত বিদ্যুৎবিভ্রাট বা কারিগরি ত্রুটি
কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র সরকারি এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না। ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন গ্রামের দর্শকরা।
অবশ্য ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িক মেরামতে থাকায় সামান্য কিছু এলাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে খেলা শুরুর আগেই এসব কেন্দ্র চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ফুটবল বিশ্বকাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।
খেলার সময় চ্যালেঞ্জ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
আগামীকাল ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই বিশ্বমঞ্চে। তবে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ম্যাচের সময়সূচি। ভৌগোলিক সময়ের পার্থক্যের কারণে অধিকাংশ ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় গভীর রাত, ভোররাত কিংবা সকালে। ফলে টেলিভিশন কিংবা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের ওপর নির্ভরশীল দর্শকদের জন্য এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন চাহিদা সামাল দিতে দেশে প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
এলাকাভেদে লোডশেডিংয়ের সময়-স্থায়িত্ব ভিন্ন
বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে উৎপাদন ঘাটতির চেয়ে বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে পল্লী বিদ্যুতের ওপর। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আরইবি ও এর আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন এবং গ্রামীণ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ঝড়-বৃষ্টি বা কারিগরি ত্রুটির প্রভাবও এখানে বেশি দেখা যায়।

প্রতিনিধির নাম
।।