টিডিএন বিশেষ:আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্থানে ব্যাপক লুটপাট, দখল, হামলা এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে।এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি এলাকায় অবস্থিত বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আরিফ মঈনুদ্দিনের মালিকানাধীন ওরিয়েন্ট টাওয়ার ও আজিম সেন্টারের কেয়ারটেকার মো: মুক্তার কাজী ও তার স্ত্রী শিউলী আক্তার কে মারধর করে ঐ ভবনের মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আহমেদ হোছাইনের নেতৃত্বে আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার (৫ আগষ্ট) বিকালে কোতোয়ালি থানা এলাকার ঐ ভবনে এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভবনটির কেয়ারটেকার মুক্তার কাজী ।তিনি জানান,দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিল্ডিংটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজে তিনি নিয়োজিত আছেন।ভবনের ভাড়াটিয়াদের থেকে নিয়মিত ভাড়া তুলে মালিকের কাছে দিতেন তিনি।ঘটনার দিন আহমেদ হোসেন সহ আরো ১০-১২ জন তালা ভেঙে অতর্কিতভাবে ভবনে ডুকে আমাকে ও আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের মারধর করে ৪তলায় বন্দী করে রেখে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে।আমি যদি এ বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করি তাহলে আমাকে ও আমার পরিবারকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।আমি এখন আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।যে কোন সময় যে কোন অঘটন ঘটে যেতে পারে।
এদিকে,মুক্তারের স্ত্রী শিউলি আক্তার বলেন,সেদিন এখান দিয়ে মিছিল যাচ্ছিলো,হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে ভবনে ঢুকে জানালা ভাংচুর করে।পরে তাদের মধ্যে রফিক, দীপংকর,ওসমানকে চিনতে পারি। তারাও আহামদ হোছাইনের সাথে ছিল।আমরা এর বিচার চাই।
ওরিয়েন্ট টাওয়ার ও আজিম সেন্টারের মালিক জানান,দেখুন দেশ সংস্কারে যখন সবাই ব্যস্ত,সেখানে একদল ভুমিদস্যুরা স্বক্রিয় হয়ে লুটপাট,দখল করছে।এখানে আমাদের এই ভবনটিও বাদ যায় নি।সুযোগ বুঝেই লুটপাট করলো তারা।আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।তবে আমরা সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হচ্ছি।
এসবের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আহমেদ হোছাইন এসব মিথ্যা দাবি করে বলেন, দখলদার বাহিনী তো সবাইকে পিটাচ্ছে।এখন কে কোনদিকে দখল করছে আমি তো জানি না।
জানা যায়,এর আগে গেল ১৩ মে একই এলাকার হাসান মঞ্জিলে গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে ঢুকে হামলার অভিযোগে আহামদ হোছাইনকে প্রধান আসামী করে মামলা হয়।এই আহমেদ হোছাইন এর নামে ধর্ষণ,প্রতারণা,জাল-জালিয়াতি, অর্থ আত্নসাৎ সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।