সীতাকুণ্ড পৌরসভায় দীর্ঘ এক দশক ধরে ‘বহাল তবিয়তে’ থাকা প্রকৌশলী আবু ইউছুফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য এবং বেনামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করেছেন সীতাকুন্ডের স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড পৌরসভার দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সাবেক মেয়র নায়ক শফিক সাহেবের অনুগত ফ্যাসিস্ট দোষর প্রকৌশলী আবু ইউছুফের
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত কমিশনের টাকা সরাসরি নিজের নামে না নিয়ে প্রকৌশলী আবু ইউছুফ কৌশলে তার বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন করেন।
ঠিকাদারদের সাথে গোপন আঁতাত করে বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে প্রকল্পের গুণগত মানের সাথে আপস করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত বদলির নিয়ম থাকলেও প্রকৌশলী আবু ইউছুফ সীতাকুণ্ড পৌরসভায় বছরের পর বছর ধরে কর্মরত আছেন। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা এবং অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তিনি বারবার বদলি ঠেকিয়ে দিয়েছেন। ইতিপূর্বে দুদক তার বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্ত শুরু করলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রতিবারই তিনি ছাড় পেয়ে গেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।।।
নাগরিকদের বক্তব্য
সীতাকুণ্ডের সচেতন নাগরিকরা জানান, “পৌরসভার সেবার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা এবং সরকারি অর্থ অপচয় করে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করাই এই কর্মকর্তার মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন, দুদক এবার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তার অবৈধ সম্পদের উৎস জনসমক্ষে আনুক।”
পৌরসভার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে অবিলম্বে প্রকৌশলী আবু ইউছুফের সকল ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং স্থাবর সম্পদের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী আবু ইউছুফের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসবে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধির নাম
।।