আধুনিক জীবনব্যবস্থায় অল্প বয়স থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষসহ অনেকেই হার্ট বা হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভোগেন। হৃদযন্ত্রের জটিলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য অবশ্য বিভিন্ন চেষ্টাও করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক চর্চা ও খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অর্থ শুধু অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও চিনি কমিয়ে আনা নয়।
প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন কিছু উদ্ভিদ যৌগও হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। যৌগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাভানল, যা বিভিন্ন ফল, সবজি ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে পাওয়া যায় এমন এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজি বিভাগের পরিচালক ডা. সঞ্জাত চিওয়ানের মতে, ফ্ল্যাভানল তার অ্যান্টিঅক্সিন্ট এবং প্রদাহবিরোধী গুণের জন্য বহুল পরিচিত। যা রক্তনালীর সুস্থ কার্যকারিতা বজায় রাখতে কাজ করে। তাহলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে এমন সব ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
ডার্ক চকোলেট:
যেসব ডার্ক চকোলেটে ৭০ শতাংশ বা এরও বেশি কোকো থাকে, তা হচ্ছে ফ্ল্যাভানলের সেরা খাদ্য উৎস। যৌগগুলো রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে, রক্তনালীর স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা ডার্ক চকোলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা, এতে ক্যালোরি ও অতিরিক্ত চিনি থাকার সম্ভাবনা থাকে।
কোকো ডাউডার:
চিনিমুক্ত কোকো পাউডার হচ্ছে ফ্ল্যাভানলের একটি ঘনীভূত উৎস। যা বিভিন্ন চকোলেট পণ্যে ব্যবহার করা হয়। ফ্ল্যাভানলের গ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য স্মুদি, ওটমিল, দই বা বাসায় তৈরি বিভিন্ন পানীয়ের সঙ্গে যোগ করতে পারেন কোকো পাউডার।
আপেল:
প্রচলিত রয়েছে―প্রতিদিন একটি করে আপেল খাওয়া হলে ডাক্তারকে দূরে রাখতে সাহায্য করে তা। তবে খোসাসহ আপেল খাওয়া হলে ফাইবার এবং অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদানের সঙ্গে প্রচুর ফ্ল্যাভানল পায় শরীর। নিয়মিত আপেল খাওয়া হলে স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং হৃদপিণ্ডের সুস্থতায় উপকার মিলে।
বেরি:
বিভিন্ন ধরনের বেরি রয়েছে, যেমন- ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি ও রাস্পবেরিতে প্রচুর পরিমাণ ফ্ল্যাভানল থাকে। পাশাপাশি অন্যান্য শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ফলগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস রোধে সহায়তা করে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্তনালীর ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বেরিতে থাকা উচ্চ ফাইবার উপাদান বিপাকীয় স্বাস্থ্যকেও সহায়তা করে।
আঙুর:
লাল ও বেগুনি রঙের আঙুরে প্রচুর পরিমাণ ফ্ল্যাভানল এবং অন্যান্য পলিফেনল উপাদান থাকে, যা আপনার রক্তনালীর সুস্থ কার্যকারিতা ও রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। হালকা নাশতার অংশ হিসেবে বা সালাাদেও রাখতে পারেন ফলটি। আবার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের গ্রহণ বাড়ানোর জন্য একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন আঙুর।

প্রতিনিধির নাম
।।