সোমবার (৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
পুলিশের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসে সারা দেশে মোট ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
পুলিশের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে প্রতি বছর হত্যা মামলার সংখ্যা তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। সেই হিসাবে দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হারে হিসাব করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৩০, যা দীর্ঘমেয়াদি গড় প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, জনসংখ্যার অনুপাতে অপরাধের হার বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে পুলিশ। প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে দুই মাসে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে হত্যার হার দাঁড়ায় প্রায় ০ দশমিক ৩৪। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এ হার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে শুধু মোট সংখ্যা তুলে ধরলে পরিস্থিতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণা তৈরি হতে পারে।
তৃতীয়ত, হত্যাকাণ্ডের কারণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস উপেক্ষা করে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ অধিকাংশ ঘটনাই ব্যক্তিগত শত্রুতা, পারিবারিক কলহ কিংবা অর্থনৈতিক বিরোধের ফল।
এ ছাড়া পুলিশের মতে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি। একই সময়ের অতীত তথ্য বিবেচনায় না এনে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা পদ্ধতিগতভাবে অসম্পূর্ণ।
মামলা নথিভুক্তির বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ ও মামলা গ্রহণ এবং নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে পুলিশ আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির প্রতিফলন, যা অপরাধ বৃদ্ধির সমার্থক নয়।
সার্বিক বিশ্লেষণে পুলিশ বলেছে, আলোচিত ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশই ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধজনিত। দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা, জনসংখ্যাভিত্তিক হার এবং কারণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস বিবেচনায় নিলে সংখ্যাটিকে অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমধর্মী বৃদ্ধি হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত।