আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে ৫ কিলোমিটারব্যাপী ‘রান অ্যাগেইনস্ট ড্রাগস’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ‘সেভ দ্য ইয়ুথ, সেভ দ্য নেশন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী ‘ইয়ুথ অ্যাগেইনস্ট ড্রাগস’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতারা মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সমালোচনা করেন এবং মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
এতে বক্তব্য দেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত ও জাহিদুল ইসলাম, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতারা।
৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দৌড়টি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ভিসি চত্বর ও ফুলার রোড ঘুরে আবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের জনশক্তির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর গঠন করেছে, পুনর্বাসন কেন্দ্রও তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে মাদকের ভয়াবহতা কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে। দেশে বর্তমানে ৮৩ লাখ মাদকসেবী রয়েছে এবং মোট ফৌজদারি অপরাধের ৩৮ শতাংশই সংঘটিত হয় মাদককে কেন্দ্র করে। প্রতিবছর মাদকের কারণে ৪৪১ মিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ আহত হচ্ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে। লাখ লাখ যুবক তাদের যৌবন হারাচ্ছে। শুধু মাদক গ্রহণের কারণেই পারিবারিক কলহ ও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটছে। মাদকের প্রভাবে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। মাদকের টাকা না পেয়ে বাবা সন্তানকে হত্যা করছে, আবার সন্তানও বাবা-মায়ের গায়ে হাত তুলছে।’
সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকের মতো ভয়াবহ ব্যাধি দূর করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ সবার আগে দরকার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের লোকজনই জড়িয়ে পড়েছে। তাদের ছত্রছায়ায় মাদকের বিস্তার ঘটছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে যুবসমাজকে শতভাগ মাদকমুক্ত রাখার ‘এক্সপেরিমেন্টাল ট্রুথ ফর্মুলা’ রয়েছে। এটি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করা হলে তরুণ সমাজকে শতভাগ মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব’। একই সঙ্গে তিনি সব ছাত্রসংগঠনের প্রতি দলীয় স্বার্থে মাদককে প্রশ্রয় না দিয়ে এর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।