সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপ: প্রকৌশলী আবু ইউসুফের বদলি ঘিরে নানা প্রশ্ন
সীতাকুণ্ডে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর প্রকৌশলী আবু ইউসুফের সন্দ্বীপে বদলি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তাঁর পূর্বের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন অভিযোগের নিষ্পত্তি ও হিসাব-নিকাশ যাচাই না করেই বদলি করা হয়েছে কি না—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
সীতাকুণ্ড পৌরসভায় দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন প্রকৌশলী আবু ইউসুফ। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, তাঁর দীর্ঘ দায়িত্বকালকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি।
এ অবস্থায় তাঁকে সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপ পৌরসভায় বদলি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের কেউ কেউ। তাঁদের প্রশ্ন—সীতাকুণ্ডে তাঁর দীর্ঘ সময়ের দায়িত্বকালের কাজ, প্রকল্প, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত হয়েছে কি না।
স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, এই বদলি কি শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি কোনো অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া ব্যবস্থা? যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তির আগে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতাই বা কী?
সন্দ্বীপবাসীর আশঙ্কা, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই না করে নতুন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রকৌশলী আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সন্দ্বীপবাসীর দাবি, নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলের দায়িত্বকাল, প্রকল্প বাস্তবায়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হোক।
প্রশ্ন এখন একটাই—সীতাকুণ্ডে দীর্ঘ ১৭ বছরের দায়িত্বকালের অভিযোগ ও কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কি নেওয়া হবে, নাকি বদলির সঙ্গে সেসব প্রশ্নও চাপা পড়ে যাবে?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির মাধ্যমেই এর উত্তর মিলতে পারে।