লাল ফিতা সংস্কৃতি চিরতরে ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্প মালিকদের কাছে অঙ্গীকার, জনগণের আমানতের বোঝা বহন করা কোনো দয়া নয়, বরং দায়িত্ব। ক্ষমতায় গেলে সম্পদ যেন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে, আত্মীয়স্বজন যেন রাতারাতি ধনী না হয়—এই সংস্কৃতিও ভাঙা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯) রাতে রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত ব্যবসায়ীদের দলটির দ্য পোস্পারিটি ডায়ালগ অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি।
চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এসব দৌরাত্ম্য মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই যন্ত্রণা তারা অনুভব করেন এবং অঙ্গীকার করেন—মানুষকে হালাল রুজির ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে। ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত একত্র করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য। এ সময় অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনলে রাষ্ট্র তাদেরকে আরও সম্মান দেবে বলেও জানান তিনি।
ডা শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত দিতে আহ্বান জানানো হবে সম্মানের সঙ্গে। তা ফেরত দিলে রাষ্ট্র সেই ব্যক্তিকে আরও সম্মান দেবে। এর উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং জাতির কল্যাণ।
শিল্প মালিকদের প্রধান সমস্যা তিনটি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ব্যাবসায়ীদের সমস্যা হলো, তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাল ফিতার জটিলতা। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কারখানা চালু করা না গেলেও ব্যাংকঋণের সুদ চলতে থাকে, ফলে উদ্যোক্তা শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার প্রবণতা শিল্পখাতকে প্রথম ধাক্কা দেয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে বিদেশিরা আসবে কেন?
ডা শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়ে আমরা পাশে বসে সেই যাত্রা উপভোগ করতে চান। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা লাখো মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করেন—তাই আপনাদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ব্যবসা ও শিল্পকে শিশুর মতো আগলে রাখা হবে।