অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যবসায়ীকে চোরাই মোবাইল ব্যবসার অপবাদ দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। আর সেই টাকা জোগাড় করতে নিজের স্বর্ণের চেইন বন্ধক রাখতে বাধ্য হন তার স্ত্রী লাকি আক্তার (৩৪)।
সম্প্রতি পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিরপুর মডেল থানায় কর্মরত এসআই মেহেদী হাসান মিলন ঈদের আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আপনকে আটক করে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আপন রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বরর সেকশনের লালমাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতে পুরাতন ও নষ্ট মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ২৬ মে বিকেল ৫টার দিকে এসআই মেহেদীর সোর্স পরিচয়ধারী রায়হান নামের এক ব্যক্তি মোবাইল কেনাবেচার কথা বলে তাকে পল্লবীর বড় মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নেয়
আপন সেখানে পৌঁছালে সাদা পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে। পরে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে প্রকাশ্য সড়কে এবং পুরো বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েন।
পরে তাকে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ৪ নম্বর গেটের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চোরাই মোবাইল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী আপনের দাবি, একপর্যায়ে তার স্ত্রী লাকি আক্তারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। বলা হয়, টাকা না দিলে তাকে হেরোইন মামলায় আসামি করা হবে।
স্বামীকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন লাকি আক্তার। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ব্যবহৃত প্রায় ১৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন বাউনিয়াবাঁধ এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানে বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। পরে ওই টাকা নিয়ে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ৪ নম্বর গেটে যান।
লাকির দাবি, সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বাকি ৫০ হাজার টাকা পরবর্তীতে দেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত থাকে।
গোপন প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও ভুক্তভোগী পরিবারকে কয়েক দফা ফোন করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে জানালে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আপন বলেন, ‘আমার কোনো অপরাধ ছিল না। আমাকে রাস্তা থেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আমার স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। ঈদের আগে স্ত্রী স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে। সেই টাকা দেওয়ার পর আমাকে ছাড়া হয়। আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা আমি ফেরত চাই।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পান-সিগারেট বিক্রেতা সাইদ বলেন, ‘ঈদের আগে সাদা পোশাকে তিনজন লোক এসে আপনকে ধরে নিয়ে যায়। তার হাতে হ্যান্ডকাফও ছিল। পরে শুনেছি, টাকা দেওয়ার পর সে ছাড়া পেয়েছে।’
এ ঘটনায় একটি ভিডিও এবং কয়েকটি স্থিরচিত্রও বাংলানিউজের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্য সড়ক থেকে একজনকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তিই ছিলেন মো. আপন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিরপুর মডেল থানার এসআই মেহেদী হাসান মিলন। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন একটি ঘটনার কথা আমিও শুনেছি। কে তাকে ধরেছে, সেটি আগে খোঁজ নিন। আমার নাম ভুলভাবে বলা হচ্ছে। আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি।’