স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৫ জুন) একই স্থানে পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনার পরদিনই রাজপথে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে নামে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল।
শনিবার বিকেলে প্রথমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নোয়ান্নই ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে নোয়াখালী শহর শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে জনগণ ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার অভিযোগের দায় থেকে তারা কখনো মুক্তি পাবে না। যারা এখনও রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। কোনোভাবেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনর্বাসন হতে দেয়া হবে না।’
শিবিরের কর্মসূচির পর নোয়ান্নই ইউনিয়ন শাখার আয়োজনে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ছাত্রসমাজ আর কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারিত্বের রাজনীতি মেনে নেবে না। জনগণের রায়ে প্রত্যাখ্যাত শক্তির পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখে দিতে ছাত্রদল সবসময় রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের প্রতিবাদে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।ধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় পুলিশ রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ একই স্থানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল কর্মসূচি পালন করেছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে পুলিশ কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’