দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে জেলা কমিটি। দলীয় এ সিদ্ধান্তকে ভিন্ন খাতে নিতে এক নেতাকে ‘অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিক থেকে এনসিপি নেতা অপহরণের অভিযোগে পুলিশ প্রশাসনসহ জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
জানা যায়, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সংগঠক সারজিস আলম শুক্রবার মৌলভীবাজারের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যান। তখন তাদের সামনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অশালীন আচরণ করেন জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব কামরুল হাসান এবং জুলাই আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন। এরপর ওই দিন রাতে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নির্দেশে ওই দুই নেতাকে দলের সকল সাংগঠনিক পদ এবং কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্য সিলেট বিভাগীয় সংগঠক এতেহশাম হকের কাছে এর জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এক নেতাকে অপহরণের নাটক সাজানো হয়। পরবর্তীতে অপহরণ নাটকের সঙ্গে যুক্ত আব্দুল্লাহ আল হুসাইন শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে আইনগত সহায়তা চান।
শ্রীমঙ্গল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন থানায় উপস্থিত হয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদ নামে একজনের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় তারা তাকে এহসান জাকারিয়ার সাথে দ্বন্দ্বে জড়ালে মেরে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে রাত ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে ফেলে দিয়ে তারা চলে যায়।