চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর-দক্ষিণ জেলায় প্রায় দুই হাজার দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেছে জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক জিয়াউল হক পলাশ প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন।এ সময় তার সাথে ছিলেন জনপ্রিয় টিভি নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) ও শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) ইরামন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করে।
সংগঠনের সদস্য আশিক আরফিনের সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি, ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক পলাশ, বাংলাধারার সম্পাদক ফেরদৌস শিপন, ব্যবসায়ী ও সংগঠক রুম্মান আহমেদ, আলোর ঠিকানা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক ঋত্ত্বিক নয়ন, সংগঠক আলী শিপন, ডাকবাক্সের চট্টগ্রাম শাখার সমন্বয়ক আকাশ ইকবাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইরামন ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য আসিফ আহমেদ শোভন, জুয়েলসহ ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম শাখার প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য।
এমন একটি মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জিয়াউল হক পলাশকে ধন্যবাদ জানিয়ে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি বলেন, আজ আমার চোখের পর্দা খুলে দিয়েছে আমার ছোট ভাই পলাশ। পলাশকে আমি অনেকদিন ধরে দেখছি, ডাকবাক্সের পেছনে প্রচুর সময় দিচ্ছে। আজ এই কার্যক্রমে এসেই বুঝলাম সে কেন সময় দিচ্ছে। দুস্থদের সাহায্য করার পেছনে যে কষ্টটা হয় এবং মানুষ যখন এতে খুশি হয়, তখন যে আন্দন পাওয়া যায় তা কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। আমি চেষ্টা করব ভবিষ্যতে নিজেকে এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত রাখতে।
ছোট পরিসরে শুরু হওয়া ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের পথচলায় ঢাকা ও নোয়াখালীর পর যুক্ত হলো চট্টগ্রামের নাম। ভবিষ্যতে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চায় জানিয়ে জিয়াউল হক পলাশ বলেন, আমরা অভিনয় শিল্পী হওয়ায় সাধারণ মানুষ আমাদের অনেকটা কাছের মনে করে। দেখা গেছে তাদের পরিবার ও নিজের দুঃখ-কষ্ট আমার কাছে শেয়ার করেন। তখন আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি নিজেই একটা ডাকবাক্স, সবাই তাদের মনের দুঃখ-কষ্ট চিঠি আকারে আমার ভেতর ফেলে যাচ্ছে। সেই ধারণা থেকেই ডাকবাক্স নামটা দেয়া এবং আমাদের কার্যক্রম শুরু।
ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম শাখার সমন্বয়ক আকাশ ইকবাল বলেন, দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে ঢাকা ও নোয়াখালীর পর চট্টগ্রামে আমাদের মানবিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছে। আমাদের ফাউন্ডেশনের প্রত্যেক সদস্য দীর্ঘ দুই মাস স্ব-স্ব এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষকে খুঁজে বের করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি, শীতবস্ত্র যাদের প্রয়োজন তাদের হাতে তুলে দিতে। শুধু শীতবস্ত্র বিতরণ নয়, আমরা আরও বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমাদের এই কার্যক্রম আরও বড় আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হবে।