রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালুর মহাল বন্ধে জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পর উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ২টি বালু মহালের ব্যবসায়ীকে দুটি ড্রেজার মেশিনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫) নভেম্বর দুপুর থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইনের নেতৃত্বে উপজেলার লালানগর ও দক্ষিন রাজানগর এলাকার বালু মহালে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন ও বালু মহালের জন্য অনুমতি নেই। ইজারা ব্যতিত অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মহাল গড়ে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ পেয়ে অবৈধ বালু মহালে অভিযান পরিচালনা করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুসারে অভিযুক্ত আলমগীরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এবং বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। অবৈধ বালু উত্তোলন ও মহালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার সাবেক এমপি হাছান মাহমুদের প্রভাব খাটিয়ে এবং তার পরিবারের সহযোগিতায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু মহাল ইজারার নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অসাধু বালুদস্যুরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী দুই কুলের বাসিন্দাদের বাস্তুভিটা এবং রাস্তাঘাট নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক পরিবার। নদী–গর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক আবাদি জমি। উত্তর রাঙ্গুনিয়া ৫টি ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের এই ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে নিয়ে ইছামতি নদী রক্ষা কমিটি গঠিত হয়।
এই কমিটির উদ্যোগে গত এক মাস আগে থেকে রাঙ্গুনিয়ার ইউএনও এবং চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সর্বশেষ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে এসকল অবৈধ বালু উত্তোলন ও মহলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয় ইছামতি নদীর রক্ষা কমিটিকে। জেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরই অ্যাকশনে নামে উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা মিলেছে , নদীতে দুপাশে ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট । এসব বালু উত্তোলন করে মজুদ করে রাখা হয় গড়ে উঠা অবৈধ বালু মহালে। এতে হুমকির মুখে বসতবাড়ি, স্কুল কলেজ মসজিদ ও আবাদি জমি।এসবের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না স্থানীয়রা।